কিছু একটা ভুল হলে, খেলনা ভেঙে গেলে বা কোনো পরিকল্পনা পরিবর্তন হলে শিশুরা উদ্বিগ্ন হয়ে পরে। তাদের আশ্বস্ত করতে প্রয়োজন হয় তারা এখনো নিরাপদ আছে।
এই সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য দুটি বাক্য ব্যবহার করা হয়। ‘ইটস অল রাইট’ এবং ‘এভরিথিং ইজ ওকে’। দুটো কথার অর্থ হলো, ‘ভয় পেও না’। দুটোই নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু তাদের কাজ করার ধরন সামান্য আলাদা।
একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের উপর দৃষ্টি দেয়। অন্যটি পুরো ছবিটা দেখে। বাবা-মা এবং শিক্ষকরা দুটোই ব্যবহার করেন। পার্থক্যটা বুঝলে শিশুদের মধ্যে সত্যিকারের নিরাপত্তা বোধ জন্মায়।
এই নিবন্ধটি পরিবারকে এই সান্ত্বনাদায়ক বাক্যগুলো নিয়ে আলোচনা করতে সাহায্য করবে। আপনার সন্তান শিখবে কীভাবে প্রতিটি বাক্য ভিন্ন ধরনের শান্তি এনে দেয়।
এই অভিব্যক্তিগুলোর অর্থ কী?
‘ইটস অল রাইট’ মানে ‘এই নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বা মুহূর্তটি গ্রহণযোগ্য এবং কোনো বিপর্যয় নয়’। বাক্যটি বর্তমান সমস্যার উপর দৃষ্টি দেয়। এটি বলে, ‘এই একটি জিনিস তেমন খারাপ নয়’।
একটি শিশুর জন্য, ধরুন আপনার আইসক্রিম পড়ে গেল। আপনি দুঃখিত হলেন। বাবা-মা বললেন, ‘ইটস অল রাইট’। এর মানে হলো, ‘এই দুঃখের ঘটনাটি ঘটেছে। কিন্তু তুমি ঠিক আছো। আমরা আরও আনতে পারি’।
‘এভরিথিং ইজ ওকে’ মানে ‘তোমার জীবনের এবং পৃথিবীর সব অংশ নিরাপদ এবং ভালো আছে’। বাক্যটি পুরো ছবিটা দেখে। এটি বলে, ‘তোমার জগতে কিছুই ভাঙেনি’।
একটি শিশুর জন্য, ধরুন রাতে একটি শব্দ শুনলেন। আপনি ভয় পেলেন। বাবা-মা বললেন, ‘এভরিথিং ইজ ওকে’। এর মানে হলো, ‘বাড়ি নিরাপদ। তোমার পরিবার নিরাপদ। তুমি নিরাপদ। কোথাও কোনো ভুল নেই’।
এই দুটি অভিব্যক্তি একই রকম শোনায় কারণ দুটোই শিশুকে শান্ত করে। দুটোই বলে, ‘ভয় পেও না’। দুটোই একজন ভালোবাসাময় প্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে আসে।
কিন্তু একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তকে ঠিক করে। অন্যটি পুরো বিশ্বকে নিশ্চিত করে।
পার্থক্যটা কী?
প্রধান পার্থক্য হলো নিশ্চয়তার পরিধিতে। ‘ইটস অল রাইট’ একটি পরিস্থিতির কথা বলে। ‘এভরিথিং ইজ ওকে’ শিশুর পুরো বিশ্বের কথা বলে।
একটি একটি সমস্যা নিয়ে, অন্যটি সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ে।
‘ইটস অল রাইট’ আরও নির্দিষ্ট এবং ক্ষণস্থায়ী মনে হয়। যখন একটি জিনিস ভুল হয়, তখন আপনি এটি ব্যবহার করেন। শিশুটি দুধ ফেলল। শিশুটি খেলা হারল। শিশুটি ভুল করল। সেই একটি জিনিস ঠিক আছে।
‘এভরিথিং ইজ ওকে’ আরও ব্যাপক এবং স্থায়ী মনে হয়। যখন একটি শিশু সাধারণ ভয় বা উদ্বেগে ভোগে, তখন আপনি এটি ব্যবহার করেন। শিশুটি অন্ধকারে ভয় পায়। শিশুটি বাবা-মায়ের চলে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত। শিশুটি বিশ্বে নিজেকে অনিরাপদ মনে করে।
আরেকটি পার্থক্য হলো ভয়ের মাত্রা। ছোট ভয়ের জন্য ‘ইটস অল রাইট’। বড়, অস্তিত্বের ভয়ের জন্য ‘এভরিথিং ইজ ওকে’।
এছাড়াও, ‘ইটস অল রাইট’ দ্রুত বলা যেতে পারে। ‘এভরিথিং ইজ ওকে’ বলার জন্য ধীর, আরও ইচ্ছাকৃত স্বর প্রয়োজন।
সুতরাং মনে রাখবেন: ইটস অল রাইট = একটি পরিস্থিতি ঠিক আছে। এভরিথিং ইজ ওকে = তোমার পুরো জগৎ নিরাপদ।
আমরা কখন কোনটা ব্যবহার করি?
ছোট, নির্দিষ্ট হতাশা বা দুর্ঘটনার জন্য ‘ইটস অল রাইট’ ব্যবহার করুন। যখন একটি শিশু কিছু ফেলে দেয়, তখন এটি ব্যবহার করুন। যখন একটি শিশু ভুল করে, তখন এটি ব্যবহার করুন। যখন একটি শিশু তার সুযোগ হারায়, তখন এটি ব্যবহার করুন।
উদাহরণস্বরূপ, একটি শিশু একটি ব্লকের টাওয়ার তৈরি করে। সেটি পড়ে গেল। শিশুটি কাঁদছে। আপনি বলেন, ‘ইটস অল রাইট। আমরা আবার তৈরি করতে পারি’। আপনি নির্দিষ্ট ক্ষতির কথা বলছেন।
ছোটখাটো সামাজিক সমস্যার জন্য ‘ইটস অল রাইট’ ব্যবহার করুন। একটি শিশু ভুল কথা বলে। ‘ইটস অল রাইট। সবাই মাঝে মাঝে ভুল করে’।
সাধারণ ভয় এবং উদ্বেগের জন্য ‘এভরিথিং ইজ ওকে’ ব্যবহার করুন। রাতে যখন একটি শিশু ভয় পায়, তখন এটি ব্যবহার করুন। স্থানান্তরের মতো বড় পরিবর্তনের আগে এটি ব্যবহার করুন। যখন একটি শিশু বাবা-মা সম্পর্কে চিন্তা করে, তখন এটি ব্যবহার করুন।
উদাহরণস্বরূপ, একটি শিশু দুঃস্বপ্ন থেকে জেগে ওঠে। তারা কাঁদছে এবং কাঁপছে। আপনি তাদের ধরে বলেন, ‘এভরিথিং ইজ ওকে। তুমি তোমার বিছানায় নিরাপদ। মা এবং বাবা এখানে আছে। পৃথিবী নিরাপদ’।
যখন একাধিক জিনিস একসঙ্গে ভুল হয়, তখন ‘এভরিথিং ইজ ওকে’ ব্যবহার করুন। শিশু পরীক্ষায় ফেল করেছে, একটি খেলনা হারিয়েছে এবং বন্ধুর সাথে ঝগড়া করেছে। ‘এভরিথিং ইজ ওকে। আমরা একসঙ্গে এই সমস্যার সমাধান করব’।
এছাড়াও, যখন আপনার একটি আতঙ্কের পরিস্থিতি বন্ধ করতে হবে, তখন ‘এভরিথিং ইজ ওকে’ ব্যবহার করুন। একটি শিশু বলে, ‘কিছুই ঠিক নেই!’ আপনি বলুন, ‘এভরিথিং ইজ ওকে। আসুন, এখন যা সত্যি, তা দেখি’।
মনে রাখবেন: একটি নির্দিষ্ট সমস্যা = ‘ইটস অল রাইট’। সাধারণ ভয় বা একাধিক সমস্যা = ‘এভরিথিং ইজ ওকে’।
শিশুদের জন্য উদাহরণ বাক্য
এখানে ‘ইটস অল রাইট’-এর জন্য কিছু সহজ বাক্য দেওয়া হলো:
ক্রায়োনটি ভেঙে যাওয়ায় ইটস অল রাইট। আমাদের কাছে বাক্সে আরও আছে।
(এটি একটি নির্দিষ্ট ছোট দুর্ঘটনার কথা বলছে)।
ইটস অল রাইট। তুমি দৌড়ে ভালো চেষ্টা করেছ। সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
(এটি একটি নির্দিষ্ট হতাশার কথা বলছে)।
ইটস অল রাইট যে তুমি তোমার দুপুরের খাবার আনতে ভুলে গেছ। আমি এটা তোমার জন্য স্কুলে নিয়ে আসব।
(এটি একটি নির্দিষ্ট ভুলে যাওয়া জিনিসের কথা বলছে)।
এখানে ‘এভরিথিং ইজ ওকে’-এর জন্য কিছু সহজ বাক্য দেওয়া হলো:
এভরিথিং ইজ ওকে। বজ্রপাত হচ্ছে, কিন্তু আমাদের ঘর শক্তিশালী এবং নিরাপদ।
(এটি পুরো বিশ্বকে প্রভাবিত করে এমন একটি ঝড়ের ভয়ের কথা বলছে)।
এভরিথিং ইজ ওকে। তুমি একটি নতুন স্কুলে যাচ্ছ, কিন্তু তোমার পরিবার তোমাকে ভালোবাসে এবং তুমি নতুন বন্ধু তৈরি করবে।
(এটি একটি বড় পরিবর্তন সম্পর্কে সাধারণ উদ্বেগের কথা বলছে)।
ঘরের চারপাশে তাকাও। তোমার বিছানা এখানে আছে। তোমার খেলনা এখানে আছে। আমি এখানে আছি। এভরিথিং ইজ ওকে।
(এটি নিরাপত্তার দিকে ইঙ্গিত করে রাতের সাধারণ ভয়ের কথা বলছে)।
লক্ষ্য করুন কীভাবে ‘ইটস অল রাইট’ একটি ছোট জিনিস ঠিক করে। ‘এভরিথিং ইজ ওকে’ পুরো বিশ্বকে আশ্বস্ত করে।
যেসব সাধারণ ভুলগুলো এড়ানো উচিত
অনেকে ছোট সমস্যার জন্য ‘এভরিথিং ইজ ওকে’ বলে। এটা খুব বড় শোনায়। একটি শিশু কুকি ফেলে দেয়। আপনি বলেন, ‘এভরিথিং ইজ ওকে’।
ভুল: কুকি পড়ল। ‘এভরিথিং ইজ ওকে’।
সঠিক: ‘ইটস অল রাইট। আমাদের কাছে আরও কুকি আছে’।
ছোট সমস্যার জন্য ছোট বাক্য ব্যবহার করুন। বড় ভয়ের জন্য বড় বাক্য ব্যবহার করুন।
আরেকটি ভুল: গভীর ভয়ের জন্য ‘ইটস অল রাইট’ ব্যবহার করা। এটা অবজ্ঞা শোনায়। একটি শিশু হাসপাতালে বাবা-মাকে যেতে দেখে ভয় পায়। আপনি বলেন, ‘ইটস অল রাইট’।
ভুল: বাবা-মায়ের অস্ত্রোপচার নিয়ে শিশু আতঙ্কিত। ‘ইটস অল রাইট’।
সঠিক: ‘এভরিথিং ইজ ওকে। ডাক্তাররা বাবার ভালো যত্ন নেবেন। তুমি দিদার সাথে নিরাপদ আছো’।
গভীর ভয়ের জন্য বিশ্বব্যাপী আশ্বাস প্রয়োজন।
তৃতীয় ভুল: বাক্যের সাথে আপনার স্বর মেলাতে ভুলে যাওয়া। তাড়াহুড়ো করে, উত্তেজনাপূর্ণ কণ্ঠে ‘এভরিথিং ইজ ওকে’ বললে শিশু বিভ্রান্ত হবে। আপনার কণ্ঠস্বর আপনার কথার সাথে মিলতে হবে।
যখন আপনি বলেন, ‘এভরিথিং ইজ ওকে’, ধীরে কথা বলুন। শ্বাস নিন। একটি শান্ত, মৃদু স্বর ব্যবহার করুন। আপনার শান্ত শরীর একা আপনার কথার চেয়ে বেশি শেখায়।
সহজ স্মৃতি কৌশল
এখানে শিশুদের জন্য একটি মজার কৌশল দেওয়া হলো। একটি ব্যান্ডেজ এবং একটি সেফটি নেটের কথা ভাবুন।
‘ইটস অল রাইট’ = একটি ব্যান্ডেজ। আপনি একটি ছোট কাটার উপর একটি ব্যান্ডেজ লাগান। এটি একটি ছোট সমস্যা সমাধান করে। ব্যান্ডেজ বলে, ‘এই জায়গাটা এখন ঠিক আছে’।
‘এভরিথিং ইজ ওকে’ = একটি সেফটি নেট। নেটটি ট্র্যাপিজের নিচে থাকে। আপনি পরে গেলে এটি আপনাকে ধরে। এটি আপনার পুরো শরীরকে রক্ষা করে। নেট বলে, ‘যা কিছুই হোক না কেন, তুমি নিরাপদ’।
আরেকটি স্মৃতি কৌশল: শব্দগুলোর দিকে তাকান। ‘অল রাইট’-এ দুটি ছোট শব্দ আছে। এটা ছোট মনে হয়। ‘এভরিথিং’-এ অনেক অক্ষর আছে। এটা পুরো বিশ্বের মতো বড় মনে হয়।
একটি সাধারণ ছবি আঁকুন। ‘ইটস অল রাইট’-এর পাশে একটি আঙুলে একটি ব্যান্ডেজ আঁকুন। ‘এভরিথিং ইজ ওকে’-এর পাশে একজন ব্যক্তির নিচে একটি বড় সেফটি নেট আঁকুন। ছবিগুলো শিশুদের পার্থক্য অনুভব করতে সাহায্য করে।
এছাড়াও এই প্রশ্নটি ব্যবহার করুন: ‘একটি ছোট জিনিস কি ভুল, নাকি শিশুটি মনে করে পুরো বিশ্ব অনিরাপদ?’ যদি একটি ছোট জিনিস হয়, তাহলে বলুন ‘ইটস অল রাইট’। যদি পুরো বিশ্ব অনিরাপদ মনে হয়, তাহলে বলুন ‘এভরিথিং ইজ ওকে’।
ছোট্ট অনুশীলনের সময়
আপনার সন্তানের সাথে এই সহজ অনুশীলনগুলো করার চেষ্টা করুন। শূন্যস্থান পূরণ করুন ‘ইটস অল রাইট’ অথবা ‘এভরিথিং ইজ ওকে’ দিয়ে।
আপনার শিশু টেবিলের উপর জুস ফেলেছে। তারা আপসেট দেখাচ্ছে। আপনি বলেন, ‘________________। চলো একটা টিস্যু নিই’।
আপনার শিশু মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে ভয় পেয়েছে। তারা মনে করে একটি শব্দ শুনেছে। আপনি তাদের ধরে বলেন, ‘________________। ঘরটি বন্ধ করা আছে। তুমি নিরাপদ’।
আপনার শিশু একটি বোর্ড গেম হেরে গেছে এবং দুঃখিত বোধ করছে। আপনি বলেন, ‘________________। তুমি ভালো খেলেছ। চলো আবার খেলি’।
আপনার পরিবার নতুন বাড়িতে যাচ্ছে। আপনার শিশু বলে, ‘আমি ভয় পাচ্ছি। যদি আমি এটা ঘৃণা করি?’ আপনি বলেন, ‘________________। আমরা একসাথে থাকব। তুমি নতুন বন্ধু তৈরি করবে’।
উত্তর:
ইটস অল রাইট (নির্দিষ্টভাবে জুস পড়া, একটি ছোট সমস্যা)
এভরিথিং ইজ ওকে (রাতের ভয়, শিশুর বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা প্রয়োজন)
ইটস অল রাইট (একটি খেলার নির্দিষ্ট ক্ষতি)
এভরিথিং ইজ ওকে (একটি বড় পরিবর্তন সম্পর্কে সাধারণ উদ্বেগ)
এখন বাড়িতে উভয় বাক্য ব্যবহার করার অনুশীলন করুন। ছোটখাটো দুর্ঘটনা এবং হতাশায়, শান্ত হাসি দিয়ে বলুন ‘ইটস অল রাইট’। এমন ভয়ের ক্ষেত্রে যা পুরো বিশ্বকে স্পর্শ করে—রাতের বেলা, বড় পরিবর্তন, গভীর উদ্বেগ—ধীরে কথা বলুন, আপনার সন্তানকে ধরুন এবং আপনার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ কণ্ঠে বলুন ‘এভরিথিং ইজ ওকে’। আপনার সন্তান শিখবে যে কিছু সমস্যা ছোট এবং কিছু ভয় বড়। প্রত্যেকেরই নিজস্ব ধরনের ভালবাসা প্রয়োজন।
উপসংহার
ছোট, নির্দিষ্ট সমস্যা বা দুর্ঘটনার জন্য ‘ইটস অল রাইট’ ব্যবহার করুন যার জন্য একটি পরিস্থিতির বিষয়ে দ্রুত আশ্বাস প্রয়োজন। সাধারণ ভয় বা উদ্বেগের জন্য ‘এভরিথিং ইজ ওকে’ ব্যবহার করুন যেখানে শিশুর জানতে হবে যে তাদের পুরো জগৎ নিরাপদ। দুটোই সান্ত্বনা দেয়, কিন্তু একটি কাটা জায়গায় ব্যান্ডেজ লাগায়, অন্যটি পুরো আকাশকে ধরে রাখে।

