শিশুদের জন্য ‘আমি বোর হয়ে গেছি’ মানে কি ‘কিছু করার নেই’?

শিশুদের জন্য ‘আমি বোর হয়ে গেছি’ মানে কি ‘কিছু করার নেই’?

মজার গেম + আকর্ষণীয় গল্প = খুশি মনে শেখা শিশুরা! এখনই ডাউনলোড করুন

এই অভিব্যক্তিগুলোর অর্থ কী?

‘আমি বোর হয়ে গেছি’ এবং ‘কিছু করার নেই’ দুটোই আগ্রহের অভাব প্রকাশ করে। এগুলো কাউকে জানায় যে বর্তমানের কাজগুলো একঘেয়ে বা অর্থহীন লাগছে। শিশুরা শান্ত দুপুরে বা বৃষ্টির দিনে এই কথাগুলো বলে। দুটোই পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ করে।

‘আমি বোর হয়ে গেছি’ মানে আমি যা ঘটছে তাতে অনাগ্রহী বোধ করছি। এটা ভেতরের একটা অনুভূতি। একটা শিশু এটা বলে যখন খেলনাগুলো পুরনো লাগে বা খেলাগুলো ধীর মনে হয়। এটা অনুভূতির দিকে ইঙ্গিত করে।

‘কিছু করার নেই’ মানে আমি আশেপাশে কোনো আকর্ষণীয় বিকল্প দেখছি না। এটা বাইরের জগৎকে বর্ণনা করে। একটা শিশু এটা বলে যখন সে একটা শান্ত ঘর দেখছে। এটা পরিবেশের দিকে ইঙ্গিত করে।

এই অভিব্যক্তিগুলো খুব কাছাকাছি মনে হয়। দুটোরই মানে হল “আমি অন্য কিছু চাই।” দুটোই বিরক্তিকর হতে পারে। কিন্তু একটা অনুভূতির কথা বলে, অন্যটা তথ্যের কথা বলে।

পার্থক্য কি? একটা আবেগপূর্ণ। অন্যটা পর্যবেক্ষণমূলক। ‘আমি বোর হয়ে গেছি’ তোমার মাথার ভিতরে বাস করে। এর মানে হল তোমার কল্পনাশক্তির একটা ঝাঁকুনি দরকার। হয়তো অনেক কিছু করার আছে। তুমি শুধু বোর হয়ে গেছ।

‘কিছু করার নেই’ ঘরটির দিকে তাকায়। এটা কার্যকলাপগুলো গণনা করে এবং শূন্য খুঁজে পায়। এটা সত্যি হতে পারে বা নাও হতে পারে। কখনও কখনও এটা একটা অনুভূতি যা তথ্যের মতো দেখা যায়।

একটা খেলনার বাক্স ভর্তি একটা শিশুর কথা ভাবো। ‘আমি বোর হয়ে গেছি’ মানে খেলনাগুলো তাদের উত্তেজিত করে না। ‘কিছু করার নেই’ মানে তারা কোনো খেলনা দেখতে পাচ্ছে না। একটা সত্যি। একটা হয়তো গল্প।

একটা বেশি সৎ। অন্যটা নাটকীয় হতে পারে। ‘আমি বোর হয়ে গেছি’ স্বীকার করে যে এটা একটা অনুভূতি। ‘কিছু করার নেই’ জগৎকে দোষ দেয়। শিশুদের অনুভূতিটির নাম দিতে শেখান, মিথ্যা তথ্যের নয়।

এছাড়াও, ‘কিছু করার নেই’ খুব কমই সত্যি হয়। সবসময় কিছু না কিছু থাকে। আঁকো। তৈরি করো। পড়ো। চিন্তা করো। তোমার শিশুকে আসল বিকল্পগুলো দেখতে সাহায্য করো।

আমরা কখন কোনটা ব্যবহার করি? অনাগ্রহী বোধ করলে ‘আমি বোর হয়ে গেছি’ ব্যবহার করো। নতুন ধারণা নিয়ে আলোচনা শুরু করতে এটা ব্যবহার করো। নিজের মস্তিষ্কের জন্য একটা সংকেত হিসেবে এটা ব্যবহার করো। এটা শান্ত মুহূর্তের সাথে মানানসই।

বাড়িতে উদাহরণ: “এই একই খেলা খেলতে আমি বোর হয়ে গেছি।” “আমি বোর হয়ে গেছি। আমরা কি নতুন কিছু ভাবতে পারি?” “আমি আমার অনুষ্ঠান শেষ করেছি। এখন আমি বোর হয়ে গেছি।”

‘কিছু করার নেই’ খুব সাবধানে ব্যবহার করো। এটা তখনই বলো যখন এটা সত্যিই সত্যি। প্রায়শই, কিছু না কিছু থাকে। এর পরিবর্তে বলো “আমি কিছু করতে পারছি না।”

উদাহরণ যা সৎ: “বিদ্যুৎ নেই এবং অন্ধকার। কিছু করার নেই।” “আমার সব খেলনা দিদার বাড়িতে। এখানে কিছু করার নেই।” “বৃষ্টি হচ্ছে এবং আমাদের কোনো খেলা নেই। কিছু করার নেই।”

বেশিরভাগ সময়, ‘আমি বোর হয়ে গেছি’ বেছে নাও। এটা বেশি সৎ। এটা অনুভূতির মালিকানা নেয়। এটা সমাধানের আমন্ত্রণ জানায়। অনুভূতিকে দোষ দাও, জগৎকে নয়।

শিশুদের জন্য উদাহরণ বাক্য আমি বোর হয়ে গেছি: “সারা সকাল টিভি দেখতে আমি বোর হয়ে গেছি।” “আমি আমার ধাঁধা শেষ করেছি। এখন আমি বোর হয়ে গেছি।” “আমি বোর হয়ে গেছি। আমরা কি কুকি বানাতে পারি?”

কিছু করার নেই: “আমার সব বই পড়া হয়ে গেছে। কিছু করার নেই।” (হয়তো সত্যি) “আমার বন্ধু চলে গেছে। এখন কিছু করার নেই।” (শূন্যতা) “এই ওয়েটিং রুমে কিছু করার নেই।” (কখনও কখনও সত্যি)

লক্ষ্য করো ‘আমি বোর হয়ে গেছি’ একটা অনুভূতি দিয়ে শুরু হয়। ‘কিছু করার নেই’ একটা অভিযোগ দিয়ে শুরু হয়। বাবা-মায়েরা ‘আমি বোর হয়ে গেছি’-এর প্রতি ভালোভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান। এটা কম দোষারোপের মতো শোনায়।

তোমার শিশুকে বলতে শেখাও “আমি বোর অনুভব করছি।” তারপর জিজ্ঞাসা করো “আমরা কি চেষ্টা করতে পারি?” সেটা একঘেয়েমিকে সৃজনশীলতায় পরিণত করে। সেটা একটা জীবন দক্ষতা।

সাধারণ ভুল যা এড়ানো উচিত কিছু শিশু ‘কিছু করার নেই’ বলে যখন তারা শুধু বোর হয়ে যায়। সেটা সত্যি নয়। সবসময় কিছু না কিছু থাকে। তাদের পরিবর্তে ‘আমি বোর হয়ে গেছি’ বলতে শেখাও। সততা সবাইকে সাহায্য করে।

ভুল: “কিছু করার নেই!” (খেলনার বাক্স ভর্তি) সঠিক: “আমি বোর হয়ে গেছি। আমার একটা নতুন ধারণা দরকার।”

আরেকটা ভুল: একঘেয়েমি দূর করতে বড়দের জন্য অপেক্ষা করা। একঘেয়েমি কোনো জরুরি অবস্থা নয়। এটা কিছু তৈরি করার সুযোগ। তোমার শিশুকে সমাধানগুলো নিয়ে ভাবতে সাহায্য করো।

ভুল: “আমি বোর হয়ে গেছি। আমাকে আনন্দ দাও।” সঠিক: “আমি বোর হয়ে গেছি। আমি চেষ্টা করার জন্য তিনটি জিনিস ভাবব।”

কিছু শিক্ষার্থী স্পষ্টভাবে কথা বলার পরিবর্তে বিরক্ত হয়। একটা বিরক্তিকর “আমি বোর-অহ” মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়। একটা শান্ত “আমি বোর অনুভব করছি” সাহায্যকে আমন্ত্রণ জানায়। স্বরের পার্থক্য শেখান।

এছাড়াও, একটা ঘর ভর্তি থাকলে “কিছু করার নেই” বলা এড়িয়ে চলুন। আরও ভালোভাবে দেখুন। সবসময় কিছু না কিছু থাকে। একটা কাগজের টুকরো। একটা ছায়া খেলা। একটা গান। কিছু করার নেই প্রায় কখনোই সত্যি নয়।

সহজ স্মৃতি টিপস ‘আমি বোর হয়ে গেছি’কে একটা কম ব্যাটারির মতো ভাবো। খেলনাটা এখনও কাজ করে। এটির শুধু একটা ঝাঁকুনি দরকার। তোমার শক্তি আছে। তোমার শুধু একটা স্ফুলিঙ্গ দরকার।

‘কিছু করার নেই’কে একটা খালি ঘরের মতো ভাবো। কিন্তু এমনকি একটা খালি ঘরেও শ্বাস নেওয়ার মতো বাতাস আছে এবং নাচার মতো পা আছে। এটা প্রায় কখনোই সত্যিই খালি নয়।

আরেকটা কৌশল: নিয়ন্ত্রণের স্থান মনে রাখবেন। “বোর” ভিতরে বাস করে (অভ্যন্তরীণ)। “কিছু নেই” বাইরে বাস করে (বহিরাগত)। অভ্যন্তরীণ অনুভূতিগুলো তুমি পরিবর্তন করতে পারো। বহিরাগত দোষ তুমি পারবে না।

বাবা-মায়েরা বলতে পারেন: “বোর হওয়াটা ভিতরে। কিছু নেই একটা গল্প যা তুমি বলো।” সেটা শিশুদের তাদের অনুভূতির মালিক হতে সাহায্য করে। তারা শেখে যে তারা একঘেয়েমি পরিবর্তন করতে পারে। তাদের একটা নতুন ঘরের দরকার নেই। শুধু একটা নতুন চিন্তা দরকার।

বোর হওয়ার তালিকা অনুশীলন করো। তুমি যেখানেই থাকো না কেন, এমন দশটা জিনিস লেখো যা তুমি করতে পারো। আঁকো। গান করো। পড়ো। প্রসারিত করো। একটা চিঠি লেখো। যখন একঘেয়েমি আসে, একটা বেছে নাও। এখন “কিছু করার নেই” চিরতরে অদৃশ্য হয়ে যাবে।

ছোট্ট অনুশীলন করার সময় আসুন একটা ছোট অনুশীলন করি। প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য ভালো শব্দগুচ্ছটি বেছে নিন।

তোমার খেলার ঘর ভর্তি। তুমি অস্থির বোধ করছ। ক) “এই বাড়িতে কিছু করার নেই।” খ) “আমি বোর হয়ে গেছি। আমার একটা নতুন ধারণা দরকার।”

তুমি একজন ডাক্তারের ওয়েটিং রুমে আছো যেখানে কোনো খেলনা নেই, কোনো বই নেই এবং কোনো স্ক্রিন নেই। ক) “এই ঘরটিতে আমি বোর হয়ে গেছি।” খ) “এখানে অপেক্ষা করা ছাড়া কিছু করার নেই।”

উত্তর: ১ – খ। একটা ঘর ভর্তি থাকলে ‘আমি বোর হয়ে গেছি’ বেশি সৎ। ২ – খ। একটা সত্যিকারের খালি ওয়েটিং রুম হয়তো “কিছু করার নেই” অর্জন করতে পারে।

শূন্যস্থান পূরণ করুন: “যখন আমি আমার সমস্ত কাজ শেষ করি এবং অস্থির বোধ করি, তখন আমি বলি ______।” (“আমি বোর হয়ে গেছি” অনুভূতিটির সাথে মানানসই, তথ্যের সাথে নয়।)

আরও একটা: “যখন বিদ্যুৎ চলে যায় এবং আমার সমস্ত ইলেকট্রনিক্স বন্ধ হয়ে যায়, তখন আমি বলতে পারি ______।” (“কিছু করার নেই” স্বাভাবিক কার্যকলাপের হঠাৎ ক্ষতিকে মানানসই করে।)

একঘেয়েমি তোমার শত্রু নয়। একঘেয়েমি হল তোমার মস্তিষ্ক নতুন বাতাসের জন্য জিজ্ঞাসা করছে। তোমার শিশুকে অভিযোগের পরিবর্তে সৃজনশীলতার সাথে উত্তর দিতে শেখাও। সেই পাঠ তাদের সারা জীবন কাজে লাগবে।

উপসংহার “আমি বোর হয়ে গেছি” অস্থিরতার অভ্যন্তরীণ অনুভূতিটির নাম দেয়। “কিছু করার নেই” দাবি করে যে বিশ্বের কোনো বিকল্প নেই। তোমার অনুভূতি নিজের করে নিতে ‘আমি বোর হয়ে গেছি’ ব্যবহার করো। ‘কিছু করার নেই’ এড়িয়ে চলো কারণ এটা প্রায় কখনোই সত্যি নয়। একঘেয়েমি কল্পনার একটা প্রবেশদ্বার। এটার মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাও এবং নতুন কিছু তৈরি করো।