এই প্রাণীটি কী?
ঝিঝি পোকা একটি বড় আকারের পোকা যার বড়, স্বচ্ছ ডানা এবং বড় চোখ রয়েছে। এর শরীর মজবুত এবং রঙিন। কিছু ঝিঝি পোকার সবুজ, আবার কিছু কালো বা বাদামী রঙের হয়। তারা তাদের উচ্চ শব্দযুক্ত, গুঞ্জন করা গানের জন্য পরিচিত। পুরুষ ঝিঝি পোকা স্ত্রী পোকাদের আকৃষ্ট করতে গান গায়।
ঝিঝি পোকা তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় মাটির নিচে কাটায়। তারা বহু বছর ধরে নিম্ফ (শূককীট) হিসেবে বাস করে। কিছু প্রজাতি তেরো বছর ধরে মাটির নিচে থাকে। অন্যরা সতেরো বছর বাঁচে। অবশেষে যখন তারা মাটি থেকে বের হয়, তখন তারা গাছে চড়ে। তারা তাদের চামড়া ত্যাগ করে এবং ডানাযুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠে।
এই পোকাগুলো বন ও জঙ্গলে বাস করে। গরমের দিনে তাদের শোনা যায়। তাদের গান বাতাসকে ভরিয়ে তোলে। কেউ কেউ শব্দটিকে শান্তিদায়ক মনে করে। আবার কেউ কেউ এটিকে উচ্চ শব্দযুক্ত মনে করে। তবে এটি গ্রীষ্মের একটি নিশ্চিত চিহ্ন।
শিশুদের জন্য, ঝিঝি পোকা খুবই আকর্ষণীয়। তাদের দীর্ঘ জীবনচক্রকে জাদুকরী মনে হয়। তাদের উচ্চ শব্দে করা গান অবাক করে। গাছে তাদের খালি চামড়া পাওয়া দারুণ আবিষ্কার। ঝিঝি পোকা সম্পর্কে জানার মাধ্যমে শিশুরা ধৈর্য, সময়জ্ঞান এবং প্রকৃতির ছন্দ সম্পর্কে জানতে পারে।
ইংরেজি ভাষায় এই প্রাণী সম্পর্কে জানা
আসুন, ঝিঝি পোকা (cicada) শব্দটির ইংরেজি উচ্চারণ শিখি। আমরা এটিকে এভাবে বলি: /sɪˈkɑːdə/ অথবা /sɪˈkeɪdə/। শব্দটির তিনটি অংশ আছে। Ci-এর উচ্চারণ “সি”-এর মতো। Ca-এর উচ্চারণ “কা” বা “কে”-এর মতো। Da-এর উচ্চারণ “ডা”-এর মতো। একসাথে উচ্চারণ করলে হয়: cicada। শব্দটি তিনবার বলুন। Cicada। Cicada। Cicada।
এবার আসুন, ঝিঝি পোকার শরীরের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে কিছু শব্দ শিখি। মাথার মধ্যে বড় যৌগিক চোখ থাকে। চোখগুলো বেশ ফাঁকা ফাঁকা। বক্ষ হল শক্তিশালী মধ্যভাগ। ডানাগুলো স্বচ্ছ এবং তাতে গাঢ় শিরা থাকে। উদর ফাঁপা। এই ফাঁপা স্থান শব্দকে আরও জোরালো করে। টিমপ্যানাল (tymbals) হল উদরের শব্দ উৎপাদনকারী অঙ্গ।
ঝিঝি পোকা সম্পর্কে একটি সুন্দর গ্রিক কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। কবি হোমার লিখেছিলেন যে, একসময় ঝিঝি পোকারা মানুষ ছিল। তারা এত মিষ্টি গান গাইত যে তারা খেতে ভুলে যেত। দেবী মিউজ তাদের পোকা বানিয়ে দেন, যাতে তারা চিরকাল গান গাইতে পারে। আরেকটি প্রবাদ আছে, “ঝিঝি পোকা গান গায়, গ্রীষ্ম শেষ হয়ে যাবে তা না জেনেই।” এটি আমাদের বর্তমান মুহূর্ত উপভোগ করতে মনে করিয়ে দেয়।
এই ইংরেজি শব্দগুলো শিশুদের ঝিঝি পোকার শরীর সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে। যখন তারা টিমপ্যানাল (tymbals) বলে, তখন তারা শব্দ উৎপাদনকারী অঙ্গ সম্পর্কে জানতে পারে। যখন তারা নিম্ফ (শূককীট) বলে, তখন তারা মাটির নিচের পর্যায় সম্পর্কে জানতে পারে। বাবা-মায়েরা ঝিঝি পোকার চামড়া খুঁজে পাওয়ার সময় এই শব্দগুলো অনুশীলন করতে পারেন। শরীরের বিভিন্ন অংশে আঙুল দিয়ে দেখান এবং শব্দগুলো একসাথে বলুন।
প্রাণী বিষয়ক তথ্য এবং বিজ্ঞান জ্ঞান
ঝিঝি পোকা হেমিপ্টেরা (Hemiptera) নামক পোকা বর্গের অন্তর্ভুক্ত। এরা এফিড (aphids) এবং লিফহপারদের (leafhoppers) সাথে সম্পর্কিত। তিন হাজারের বেশি প্রজাতির ঝিঝি পোকা রয়েছে। এদের বেশিরভাগ প্রতি বছর দেখা যায়। এদের বার্ষিক ঝিঝি পোকা বলা হয়। কিছু প্রজাতি কেবল তেরো বা সতেরো বছর পর পর দেখা যায়। এদের পর্যায়ক্রমিক ঝিঝি পোকা বলা হয়।
ঝিঝি পোকা গাছ এবং বনে বাস করে। নিম্ফ (শূককীট) মাটির নিচে বাস করে। তারা গাছের শিকড় খায়। তারা সুড়ঙ্গ তৈরি করে এবং অপেক্ষা করে। যখন মাটির তাপমাত্রা সঠিক হয়, তখন তারা বের হয়। তারা গাছের কাণ্ডে আরোহণ করে। তারা তাদের নিম্ফের চামড়া ত্যাগ করে। প্রাপ্তবয়স্ক ঝিঝি পোকা কয়েক সপ্তাহ বাঁচে।
নিম্ফ (শূককীট) গাছের শিকড় থেকে রস পান করে। প্রাপ্তবয়স্করা গাছের শাখা থেকে রস পান করে। তারা তাদের মুখ ব্যবহার করে বাকল ছিদ্র করে। তারা কঠিন খাবার খায় না। তারা রস খেয়ে বাঁচে। তারা গাছের তেমন ক্ষতি করে না।
ঝিঝি পোকার বিশেষ ক্ষমতা আছে। পুরুষ ঝিঝি পোকা একশো ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ তৈরি করতে পারে। এটি একটি লনমাওয়ারের শব্দের মতো জোরালো। তারা টিমপ্যানাল নামক ঝিল্লি (membrane) কাঁপিয়ে শব্দ তৈরি করে। ফাঁপা উদর শব্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বিভিন্ন প্রজাতির আলাদা আলাদা গান আছে। স্ত্রী পোকারা ডানা ঝাপটিয়ে সাড়া দেয়।
পর্যায়ক্রমিক ঝিঝি পোকা বিশাল সংখ্যায় বের হয়। কয়েক মিলিয়ন পোকা একসাথে দেখা যায়। একে শিকারীর তৃপ্তি (predator satiation) বলা হয়। এত বেশি ঝিঝি পোকা দেখা যায় যে শিকারীরা তাদের সবাইকে খেতে পারে না। কিছু পোকা প্রজনন করতে সক্ষম হয়। এই কৌশল প্রজাতির টিকে থাকা নিশ্চিত করে।
এই প্রাণীর সাথে নিরাপদে কীভাবে মিশবেন
ঝিঝি পোকা মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তারা কামড়ায় না বা হুল ফোটায় না। তাদের ধরা এবং পর্যবেক্ষণ করা নিরাপদ। যদি আপনি একটি ঝিঝি পোকা খুঁজে পান, তবে আপনার শিশুকে এটি দেখতে দিন। স্বচ্ছ ডানা এবং লাল চোখ লক্ষ্য করুন। এর গান শুনুন। তারপর এটিকে ছেড়ে দিন।
যখন ঝিঝি পোকা বের হয়, তখন আপনি গাছের উপর তাদের খালি চামড়া খুঁজে পাবেন। এগুলোকে এক্সুভিয়া (exuviae) বলা হয়। শিশুরা এগুলো সংগ্রহ করতে ভালোবাসে। এগুলো স্পর্শ করা নিরাপদ। পিঠের দিকে কাটা অংশটি দেখুন, যেখান থেকে প্রাপ্তবয়স্ক পোকা বের হয়েছে। চামড়াটিকে জীবিত পোকার সাথে তুলনা করুন।
যদি আপনার শিশু একটি ঝিঝি পোকা ধরতে চায়, তবে তাদের দেখান কীভাবে ধরতে হয়। এটিকে হাতে বসতে দিন। এর পা কিভাবে ধরে আছে অনুভব করুন। এর ডানা দেখুন। তারপর এটিকে আবার গাছে বসিয়ে দিন। ঝিঝি পোকা উড়তে একটু আনাড়ি। তারা হয়তো কোনো কিছুর সাথে ধাক্কা খাবে। মৃদুভাবে ধরলে তাদের কোনো ক্ষতি হবে না।
শিশুদের ঝিঝি পোকার ক্ষতি করতে নিষেধ করুন। তারা গ্রীষ্মের একটি অংশ। তাদের গান আমাদের ঋতু সম্পর্কে জানায়। তাদের আবির্ভাব একটি প্রাকৃতিক বিস্ময়। তাদের দেখা, তাদের গান শোনা এবং তাদের সম্পর্কে জানা একটি উপহার।
যদি আপনার পরিবারে গাছ থাকে, তবে ঝিঝি পোকা ছোট ডালে ডিম পাড়ে। এর ফলে সামান্য ক্ষতি হতে পারে। তবে গাছগুলো সেরে ওঠে। ঝিঝি পোকা বন চক্রের একটি অংশ। তারা মারা গেলে মাটি উর্বর করে।
এই প্রাণী থেকে আমরা কী শিখতে পারি
ঝিঝি পোকা আমাদের ধৈর্য ধরতে শেখায়। তারা বছরের পর বছর মাটির নিচে অপেক্ষা করে। তারা তাড়াহুড়ো করে না। শিশুরা শেখে যে অপেক্ষা করা জীবনের একটি অংশ। জন্মদিনের জন্য অপেক্ষা করা, ভ্রমণের জন্য অপেক্ষা করা বা বড় হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা—সবকিছুতেই ধৈর্যের প্রয়োজন। ভালো জিনিস তাদের নিজস্ব সময়ে আসে।
ঝিঝি পোকা আমাদের সময়জ্ঞান শেখায়। তারা জানে কখন বের হতে হবে। শিশুরা শেখে যে সময়জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে কাজ করা আমাদের সফল হতে সাহায্য করে। কখন কথা বলতে হবে, কখন শুনতে হবে এবং কখন কাজ করতে হবে—এগুলো সবই দক্ষতা।
ঝিঝি পোকা আমাদের কথা শোনানোর গুরুত্ব শেখায়। তারা জোরে গান গায়। তারা তাদের কণ্ঠস্বর লুকায় না। শিশুরা শেখে যে তাদের কথা গুরুত্বপূর্ণ। কথা বলা, ধারণা ভাগ করে নেওয়া এবং অনুভূতি প্রকাশ করা—এগুলো সবই নিজেদের কথা শোনানোর উপায়।
ঝিঝি পোকা আমাদের চক্র সম্পর্কে শেখায়। তারা আসে, গান গায়, প্রজনন করে এবং মারা যায়। তাদের বাচ্চারা কয়েক বছর পর ফিরে আসে। শিশুরা শেখে যে জীবনের চক্র আছে। ঋতু আসে এবং যায়। বছরগুলো বয়ে যায়। নতুন জীবন চলতে থাকে। আমরা একটি বৃহত্তর কিছুর অংশ। \nমজার শেখার কার্যক্রম
আসুন, ঝিঝি পোকা সম্পর্কে শেখাটাকে মজাদার করি। একটি কার্যকলাপ হল ঝিঝি পোকার গানের খেলা। আপনার শিশুকে একটি গুঞ্জন শব্দ করতে বলুন। শব্দটি জোরে করুন। নরম করুন। দীর্ঘ করুন। ছোট করুন। আলোচনা করুন কীভাবে পুরুষ ঝিঝি পোকা সঙ্গীদের আকৃষ্ট করতে গান গায়। বলুন “ঝিঝি পোকা গান গায়” এবং “ঝিঝি পোকা ডাকে।”
আরেকটি কার্যকলাপ হল ঝিঝি পোকার চামড়া খুঁজে বের করা। গ্রীষ্মকালে গাছের কাণ্ড এবং বেড়ার দিকে তাকান। খালি চামড়া সংগ্রহ করুন। আপনি কতগুলো খুঁজে পান তা গণনা করুন। পিঠের দিকে কাটা অংশটি দেখুন। পা এবং চোখ লক্ষ্য করুন। “এক্সুভিয়া (exuviae)”, “নিম্ফ (শূককীট)” এবং “আবির্ভাব” শব্দগুলো ব্যবহার করুন।
একটি ঝিঝি পোকার ছবি আঁকুন এবং এর বিভিন্ন অংশের নাম লিখুন। মাথা, চোখ, বক্ষ, ডানা, উদর এবং টিমপ্যানাল (tymbals) আঁকুন। প্রতিটি অংশের পাশে শব্দগুলো লিখুন। শব্দগুলো জোরে বলুন। ছোট শিশুদের জন্য, প্রথমে ঝিঝি পোকার ছবি আঁকুন। আপনি যখন শব্দগুলো বলবেন, তখন তাদের অংশগুলোতে আঙুল দিয়ে দেখাতে বলুন।
একটি ঝিঝি পোকার দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প তৈরি করুন। আপনার শিশুকে জিজ্ঞাসা করুন নিম্ফ (শূককীট) মাটির নিচে কী করে। এটি কি শিকড় থেকে রস পান করে? এটি কি সুড়ঙ্গ তৈরি করে? এটি কি সঠিক বছরের জন্য অপেক্ষা করে? একসাথে কয়েকটি বাক্য লিখুন। আপনার শিশুকে ছবি আঁকতে দিন। গল্পটি জোরে পড়ুন।
একটি ঝিঝি পোকার কারুশিল্প তৈরি করুন। ডানাগুলির জন্য একটি বড় কাগজ ব্যবহার করুন। সেগুলিতে শিরা আঁকুন। শরীরের জন্য একটি ছোট কাগজের রোল ব্যবহার করুন। বড় কাগজের চোখ যোগ করুন। ডানাগুলো সংযুক্ত করুন। কারুশিল্পের ঝিঝি পোকাটিকে নাড়াচাড়া করুন। “ঝিঝি পোকা ওপরে ওঠে” এবং “ঝিঝি পোকা গান গায়” বলার অনুশীলন করুন।
পর্যায়ক্রমিক ঝিঝি পোকা সম্পর্কে জানুন। তারা কোথায় দেখা যায় তার একটি মানচিত্র দেখুন। ১৩ বছর এবং ১৭ বছরের চক্র সম্পর্কে কথা বলুন। “পর্যায়ক্রমিক”, “আবির্ভাব” এবং “ব্রুড” শব্দগুলো ব্যবহার করুন। এটি পোকাটিকে গণিত এবং ভূগোলের সাথে সংযুক্ত করে।
এই সাধারণ কার্যকলাপগুলো শিক্ষাকে প্রাণবন্ত করে তোলে। শিশুরা খেলার মাধ্যমে ইংরেজি শব্দভান্ডার তৈরি করে। তারা জীবনচক্র বোঝার মাধ্যমে বিজ্ঞান শেখে। তারা অপেক্ষার গল্পগুলোর মাধ্যমে ধৈর্য তৈরি করে। ঝিঝি পোকা সম্পর্কে শেখা সময়জ্ঞান, কণ্ঠস্বর এবং গ্রীষ্মের গানগুলোর একটি পাঠ হয়ে ওঠে, যা সবচেয়ে উষ্ণ দিনগুলোর প্রতীক। একসাথে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত ভাষা, কৌতূহল এবং মাটির নিচে বছর গণনা করা এবং সঙ্গীতের সাথে বাতাসকে ভরিয়ে দেওয়া পোকাগুলোর প্রতি একটি স্থায়ী কৃতজ্ঞতাবোধকে শক্তিশালী করে, যা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নীরবতার ভার অর্পণ করে।

