সকাল ধীরে শুরু হয়। চোখ খোলে। শরীর বাঁক নেয়। দিনের শুরুতে দুটি সাধারণ শব্দ ব্যবহার করা হয়: 'ঘুম থেকে ওঠো' এবং 'ওঠো'। উভয় শব্দের অর্থ হল 'তোমার দিন শুরু করো'। তবে একটির অর্থ হল চোখ মেলো, অন্যটির অর্থ হল বিছানা ত্যাগ করো। বাবা-মা এবং শিশুরা একসঙ্গে শিখতে পারে। আমরা পদক্ষেপগুলো জানলে সকালগুলো সহজ হয়। সঠিক শব্দগুলো তোমার শরীরকে কী করতে হবে, তা বলে দেয়। আসুন, এই দুটি সকালের অভিব্যক্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করি।
এই অভিব্যক্তিগুলোর অর্থ কী? 'ঘুম থেকে ওঠো' মানে 'ঘুম বন্ধ করো। চোখ খোল। সচেতন হও।' তোমার মস্তিষ্ক প্রথমে জেগে ওঠে। তোমার শরীর তখনও বিছানায় থাকতে পারে।
একটি শিশুর জন্য, অ্যালার্ম বাজার কথা চিন্তা করো। 'ঘুম থেকে ওঠো' বলে, 'তোমার ঘুম শেষ। চোখ খোল। দিন শুরু হচ্ছে।'
'ওঠো' মানে 'বিছানা ত্যাগ করো। উঠে দাঁড়াও। নড়াচড়া শুরু করো।' তুমি জেগে উঠার পরেই তোমার শরীর ওঠে।
একটি শিশুর জন্য, মেঝেতে পা রাখার কথা চিন্তা করো। 'ওঠো' বলে, 'এখন বিছানা ত্যাগ করো। পায়ে দাঁড়াও। তোমার দিন শুরু করো।' উভয় শব্দই দিন শুরু করার বিষয়ে। উভয়ই বলে, 'সকাল হয়েছে'। এগুলো একই রকম মনে হয় কারণ বাবা-মা উভয় শব্দই সকালে বলেন। তবুও, একটি চোখের জন্য, অন্যটি বিছানা ত্যাগের জন্য।
পার্থক্য কী? প্রধান পার্থক্য হল কাজ। 'ঘুম থেকে ওঠো' তোমার মস্তিষ্ক এবং চোখের সাথে সম্পর্কিত। তুমি সচেতন হও। তুমি তখনও বিছানায় শুয়ে থাকতে পারো। 'ওঠো' তোমার শরীর সম্পর্কে। তুমি বিছানা ত্যাগ করো এবং দাঁড়াও।
আরেকটি পার্থক্য হল ক্রম। প্রথমে 'ঘুম থেকে ওঠো'। তারপর 'ওঠো'। তুমি যদি এখনও ঘুমিয়ে থাকো, তাহলে উঠতে পারবে না।
আরও একটি পার্থক্য হল জরুরি অবস্থা। 'ওঠো' মানে তাড়াহুড়ো করাও হতে পারে। 'ঘুম থেকে ওঠো' আরও শান্ত। তুমি ধীরে ধীরে ঘুম থেকে উঠতে পারো।
এছাড়াও, 'ঘুম থেকে ওঠো' হঠাৎ জেগে ওঠার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। 'শব্দে আমার ঘুম ভেঙে গেল।' 'ওঠো' সেইভাবে ব্যবহার করা যায় না।
শিশুদের শেখাও যে উভয়ই সকালের শব্দ। একটি চোখের জন্য, অন্যটি বিছানা ত্যাগের জন্য।
আমরা কখন কোনটি ব্যবহার করি? যখন তুমি কাউকে চোখ খুলতে বলতে চাও, তখন 'ঘুম থেকে ওঠো' ব্যবহার করো। 'ঘুম থেকে উঠার সময় হয়েছে। সূর্য উঠেছে।' 'ওঠো, ঘুমকাতুরে।'
নরম সকালের অভিবাদনের জন্য 'ঘুম থেকে ওঠো' ব্যবহার করো। 'ওঠো, সোনা। নাস্তা তৈরি।'
অ্যালার্ম বা শব্দের জন্য 'ঘুম থেকে ওঠো' ব্যবহার করো। 'কুকুরটা আমাকে ঘুম থেকে তুলল।'
যখন তুমি কাউকে বিছানা ত্যাগ করতে বলতে চাও, তখন 'ওঠো' ব্যবহার করো। 'ওঠো এবং দাঁত ব্রাশ করো।' 'আয়, ওঠো। তোমার দেরি হয়ে যাবে।'
পড়ে যাওয়ার পর দাঁড়ানোর জন্য 'ওঠো' ব্যবহার করো। 'মেঝে থেকে ওঠো।' 'সে পড়ে গেল, কিন্তু দ্রুত উঠে দাঁড়াল।'
যে কোনও বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে দাঁড়ানোর জন্য 'ওঠো' ব্যবহার করো। 'সোফা থেকে ওঠো।'
বাবা-মায়েরা উভয় শব্দ ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে 'ঘুম থেকে ওঠো' বলো। তারপর যখন বিছানা ছাড়ার সময় হবে, তখন 'ওঠো' বলো।
শিশুদের জন্য উদাহরণ বাক্য এখানে কিছু সহজ বাক্য রয়েছে যা শিশুরা বলতে পারে।
ঘুম থেকে ওঠো:
ঘুম থেকে ওঠো! সকাল হয়েছে। আমি যখন আমার জানালা দিয়ে সূর্য আসে, তখন ঘুম থেকে উঠি। দয়া করে ঘুম থেকে ওঠো। আমাদের একটি বড় দিন আছে। অ্যালার্ম ঘড়িটা আমাকে ঘুম থেকে তুলল। ধীরে ধীরে ঘুম থেকে ওঠো এবং শরীরকে প্রসারিত করো।
ওঠো:
ওঠো এবং মেঝেতে তোমার পা রাখো। স্কুলে যাওয়ার জন্য উঠার সময় হয়েছে। সে দরজা খোলার জন্য সোফা থেকে উঠল। মেঝে থেকে ওঠো। এটা নোংরা। আমি প্রতিদিন সকাল ৭টায় উঠি।
এগুলো জোরে পড়ো। লক্ষ্য করো কীভাবে 'ঘুম থেকে ওঠো' সচেতন হওয়া সম্পর্কে। লক্ষ্য করো কীভাবে 'ওঠো' বিছানা বা মেঝে ত্যাগ করা সম্পর্কে।
সাধারণ ভুলগুলো যা এড়াতে হবে শিশুরা এই শব্দগুলো নিয়ে ভুল করে। এখানে সাধারণ ভুলগুলো হলো:
ভুল ১: যখন শিশুটি এখনও ঘুমিয়ে থাকে, তখন 'ওঠো' বলা। ঘুমন্ত শিশুকে 'ওঠো!' বললে কাজ হয় না। তারা জেগে না উঠলে উঠতে পারে না। সঠিক: প্রথমে 'ঘুম থেকে ওঠো' বলো। তারপর 'ওঠো'।
ভুল ২: যখন তুমি বিছানা ত্যাগ করার কথা বলছ, তখন 'ঘুম থেকে ওঠো' বলা। 'ঘুম থেকে ওঠো এবং স্কুলে যাও' বললে ঠিক আছে। কিন্তু শুধু 'ঘুম থেকে ওঠো' বললে বিছানা ত্যাগ করার কথা বোঝায় না। সঠিক: 'ঘুম থেকে ওঠো, তারপর ওঠো' বলো।
ভুল ৩: ভুলে যাওয়া যে 'ওঠো' মানে যে কোনও অবস্থান থেকে দাঁড়ানো হতে পারে। 'মেঝে থেকে ওঠো' সঠিক। 'চেয়ার থেকে ওঠো' সঠিক। সঠিক: তুমি যখন শুয়ে বা বসে আছ, তখন যে কোনও সময় উঠার জন্য 'ওঠো' ব্যবহার করো।
ভুল ৪: দাঁড়ানোর জন্য 'ঘুম থেকে ওঠো' ব্যবহার করা। 'চেয়ার থেকে ঘুম থেকে ওঠো' ভুল। তুমি বসে থাকলে ঘুম থেকে ওঠো না। সঠিক: 'চেয়ার থেকে ওঠো' বলো।
ভুল ৫: 'ঘুম থেকে ওঠো'-এর সাথে 'আপ' ব্যবহার না করা। শুধু 'ঘুম' মানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করা বা মৃতদেহ দেখা। এটা খুবই আলাদা। সঠিক: সকালের জন্য সবসময় 'ঘুম থেকে ওঠো' বলো।
সহজ স্মৃতি কৌশল এখানে কিছু সহজ স্মৃতি কৌশল দেওয়া হলো।
স্মৃতি কৌশল ১: চোখ এবং পায়ের কথা চিন্তা করো। 'ঘুম থেকে ওঠো' চোখ খোলে। 'ওঠো' পা নাড়াচাড়া করে।
স্মৃতি কৌশল ২: তোমার হাত ব্যবহার করো। 'ঘুম থেকে ওঠো'-এর জন্য তোমার চোখ ঘষো। 'ওঠো'-এর জন্য চেয়ার থেকে নিজেকে উপরে তোলো।
স্মৃতি কৌশল ৩: জিজ্ঞাসা করো, 'চোখ কি খোলা?' যদি না হয়, তাহলে 'ঘুম থেকে ওঠো' বলো। যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে 'ওঠো' বলো।
স্মৃতি কৌশল ৪: দুটি ছবি আঁকো। বিছানায় চোখ বন্ধ করা একটি শিশু = 'ঘুম থেকে ওঠো'। বিছানার পাশে দাঁড়ানো একটি শিশু = 'ওঠো'।
স্মৃতি কৌশল ৫: 'ক্রম পরীক্ষা' ব্যবহার করো। প্রথমে ঘুম থেকে ওঠো। তারপর ওঠো। কখনোই উল্টো করো না।
প্রতিদিন সকালে এই টিপসগুলো অনুশীলন করো। নরমভাবে 'ঘুম থেকে ওঠো' বলো। তারপর যখন সময় হবে, 'ওঠো' বলো।
দ্রুত অনুশীলনের সময় এই অনুশীলনগুলো চেষ্টা করো। বাবা-মায়েরা জোরে পড়বে। শিশুরা উত্তর দেবে।
অনুশীলন ১: সেরা শব্দগুচ্ছটি বেছে নাও। তোমার শিশু এখনও ঘুমিয়ে আছে। অ্যালার্ম বেজে উঠল। তুমি কি বলবে: ক) ঘুম থেকে ওঠো খ) ওঠো
তোমার শিশুর চোখ খোলা, কিন্তু তারা এখনও বিছানায় শুয়ে আছে। তুমি কি বলবে: ক) ঘুম থেকে ওঠো খ) ওঠো
তোমার শিশু খেলার মাঠের মেঝেতে পড়ে গেল। তারা আহত হয়নি। তুমি কি বলবে: ক) ঘুম থেকে ওঠো খ) ওঠো
উত্তর: ১(ক), ২(খ), ৩(খ)
অনুশীলন ২: শূন্যস্থান পূরণ করো। '__________. সকাল সুন্দর।' (প্রথম ধাপ, চোখ খোলো)
'__________ এবং তোমার বিছানা তৈরি করো।' (দ্বিতীয় ধাপ, বিছানা ত্যাগ করো)
উত্তর: ১. ঘুম থেকে ওঠো, ২. ওঠো
বোনাস: 'সকালের ক্রম' খেলাটি খেলো। সকালের রুটিনটি অভিনয় করো। প্রথমে, 'ঘুম থেকে ওঠো'-এর জন্য চোখ ঘষো। তারপর, 'ওঠো'-এর জন্য বিছানা থেকে উঠো। তারপর দাঁত ব্রাশ করো, পোশাক পরো। সঠিক সময়ে প্রতিটি শব্দগুচ্ছ বলো। ক্রমটি শিখো।
উপসংহার কাউকে চোখ খুলতে এবং সচেতন হতে বলার জন্য 'ঘুম থেকে ওঠো' ব্যবহার করো। কাউকে বিছানা ত্যাগ করতে বা শুয়ে বা বসে থাকা থেকে উঠতে বলার জন্য 'ওঠো' ব্যবহার করো। উভয়ই দিনের শুরু। একটি প্রথমে, অন্যটি দ্বিতীয়। শিশুদের শেখাও যে সকালগুলো একটি ক্রম। আলতোভাবে ঘুম থেকে ওঠো। শক্তিতে ওঠো। তারপর দিন শুরু হয়। একটি ভালো সকাল সঠিক শব্দ দিয়ে শুরু হয়। ঘুম থেকে ওঠো এবং হাসো। ওঠো এবং চলো। বিশ্ব অপেক্ষা করছে।
















